প্রণোদনা প্যাকেজ সম্প্রসারণ ও মেয়াদ বৃদ্ধির পরামর্শ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজ অব্যাহত রাখার পাশাপাশি যেসব খাত প্রণোদনা সুবিধা পায়নি, সেগুলোকেও প্যাকেজের আওতায় আনা প্রয়োজন। যেসব খাত সরাসরি জনগণের স্বার্থের সঙ্গে জড়িত, আগামী বাজেটে প্রয়োজন হবে সেসব খাতের ওপর জোর দেয়া। জেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নের ওপর প্রয়োজন বিশেষ নজরের। আবার করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে সরকার ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজ সম্প্রসারণ ও মেয়াদ বৃদ্ধি করার দরকার হতে পারে। গতকাল এসব পরামর্শ অর্থমন্ত্রীকে দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা।

গতকাল অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সঙ্গে ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট আলোচনায় হয় দেশের প্রথিতযশা অর্থনীতিবিদ, সংগঠন ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নির্বাহীদের। ভার্চুয়াল ওই সভায় অংশ নেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) চেয়ারম্যান ড. রেহমান সোবহান, অর্থনীতিবিদ ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ, ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ ও ড. এসআর ওসমানী, সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইদুজ্জামান, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম ও ড. আকবর আলি খান, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাস উদ্দিন, ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ, ড. আতিউর রহমান।

এছাড়া অংশ নেন সাবেক অর্থ সচিব এম মতিউল ইসলাম, মীর মুস্তাফিজুর রহমান, মাহবুব আহমেদ, ড. মোহাম্মদ তারেক, পলিসি রিচার্স ইনস্টিটিউট (পিআরআই) চেয়ারম্যান ড. জাইদি সাত্তার, নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর, বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. আবুল বারকাত, সাধারণ সম্পাদক ড. জামালউদ্দিন আহমদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. এমএম আকাশ। সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন অর্থমন্ত্রী।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, অর্থনীতিবিদদের সব পরামর্শ আমরা রেকর্ড করেছি। এরপর যারা বাজেট প্রণয়ন করছেন, তাদের সঙ্গে আলোচনা করে অর্থনীতিবিদদের পরামর্শগুলো গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হবে। গত বছরও করোনাভাইরাসের মধ্যে বাজেট প্রণয়ন করতে হয়েছে। এ বছরও একই অবস্থা। এ সময় শুধু দেশীয় বিবেচনায় কিছু করা সম্ভব নয়। প্রধানমন্ত্রী সবসময় দেশের সাধারণ মানুষের জীবনের নিরাপত্তার ওপর জোর দিয়ে আসছেন। তার নির্দেশে আমরা জনকল্যাণমুখী বাজেট প্রণয়নের চেষ্টা করছি।

অর্থনীতিবিদরা কী পরামর্শ দিয়েছেন— এমন প্রশ্নের উত্তরে অর্থমন্ত্রী বলেন, ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজ অব্যাহত রাখার পাশাপাশি যেসব খাত প্রণোদনা সুবিধা পায়নি, সেগুলোকেও প্যাকেজের আওতায় আনার পরামর্শ দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা। যেসব খাত সরাসরি জনগণের স্বার্থের সঙ্গে জড়িত আগামী বাজেটে সেসব খাতের ওপর জোর দেয়া হবে। জনগণের হাতে টাকা-পয়সা যেতে পারে। অর্থনীতিবিদরা তাদের আলোচনায় জেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নের ওপর বিশেষ নজর দেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। এছাড়া মুদ্রানীতি সম্প্রসারণমূলক হওয়া প্রয়োজন। করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে সরকার ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজ সম্প্রসারণ ও মেয়াদ বৃদ্ধির পরামর্শ দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা। তবে প্যাকেজের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করব, তিনি এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।

সামনে কঠোর লকডাউনে হতদরিদ্রের জন্য কোনো চিন্তা আছে কিনা জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের বাজেট হবে আরো পরে। এ বিষয় প্রধানমন্ত্রী নিজে দেখেন। তার চিন্তা হলো দেশের মানুষের জীবন-জীবিকা। এজন্য যা প্রয়োজন, তিনি তা অবশ্যই বিবেচনা করবেন।

সভায় আয়কর আদায়ের হার বাড়ানোর ওপর জোর দেয়া হয়েছে। কারণ প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় আমাদের ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত অত্যন্ত কম। যেসব পণ্যের ওপর যে হারে কর আদায় করা উচিত, আমাদের এখানে সে হারে আদায় হচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রেই ট্যাক্স মওকুফ করা হয়। যেমন সরকারের বিভিন্ন মেগা প্রকল্পে এ ধরনের ব্যবস্থা রয়েছে। আমারা চেষ্টা করছি ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত বাড়ানোর জন্য। পর্যায়ক্রমে করপোরেট ট্যাক্স কমিয়ে আনা হচ্ছে। চলতি বাজেটে এটা কমানো হয়েছে, আগামী বাজেটেও বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

কালো টাকা সাদা করার বিষয়ে অর্থনীতিবিদদের পরামর্শ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অপ্রদর্শিত অর্থ ঘোষণা দিয়ে তা সাদা করার নিয়ম এখনো আছে। এ কারণে বৈধ ব্যবসায়ীরা নিরুৎসাহিত হচ্ছেন কিনা সেটি যাচাইয়ের জন্য পরামর্শ দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা। অপ্রদর্শিত অর্থ বিশেষ করে জায়গা-জমি বা এ ধরনের সম্পত্তি ক্রয়ে বিনিয়োগ করা হয়। জমি রেজিস্ট্রেশনে বেশি দামে কিনে কম দাম দেখিয়ে কর ফাঁকি দেয়ার প্রবণতা রয়েছে। এটা বন্ধ করার জন্য ডিজিটালাইজেশন করার কাজ চলছে। এছাড়া অপ্রদর্শিত অর্থের উৎস বন্ধ করতে কাজ করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন-

Leave a Reply